কুয়েতের পরিচ্ছন্নতা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপ টেক’-এ কর্মরত ১৩০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক টানা চার মাস বেতন না পেয়ে কর্মবিরতি পালন করায় বর্তমানে আটক অবস্থায় আছেন। দেশটির শ্রম আইনের আওতায় তাদের ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে গণ্য করে পাঠানো হয়েছে কুয়েতের প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুয়েত সরকার কিছু শ্রমিককে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। বাকিদের বিষয়ে দূতাবাস কুয়েতের পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও জনশক্তি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
🔍 ঘটনার পটভূমি:
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে তারা কোনো বেতন পাননি। পরিস্থিতির প্রতিবাদে ২১ জুলাই থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন এবং পরদিন ফান্তাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের আটক করে পাঠানো হয় প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে।
কুয়েতের শ্রম আইনে ধর্মঘট বা কর্মবিরতি নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের পদক্ষেপকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
🧾 কোম্পানির অবস্থান:
‘ক্যাপ টেক’ কোম্পানির মালিক দাবি করেন, তার এক ব্যবসায়িক অংশীদার শ্রমিকদের বেতনের অর্থ নিয়ে আত্মগোপন করেছেন। ফলে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি প্রস্তাব দেন, এক মাসের বেতন নগদ এবং বাকি তিন মাসের বেতন কিস্তিতে পরিশোধ করবেন, কিন্তু শ্রমিকরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
🏛️ দূতাবাসের বক্তব্য:
রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন জানান, “২০২৪ সালের নভেম্বরেও এই কোম্পানির সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছিল দূতাবাসের হস্তক্ষেপে। তবে এবার শ্রমিকরা আগেই কিছু না জানানোয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।”
বর্তমানে শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।






