কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপির সার্চ কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত আট রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায় এবং দুটি বাড়ি ও একটি মুদির দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আহত হয়েছেন তিন জন, যারা বর্তমানে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ জুন মঙ্গলবার বিকেলে ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গোহাট এলাকায়, যেখানে সার্চ কমিটির ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুতির জন্য বৈঠক চলছিল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৈঠক শেষ হলে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। তখন দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, এই গোলাগুলিতে দুই পক্ষের বিএনপি কর্মী হামিদুল ও আরিফ গুরুতর আহত হন। অপর গ্রুপের কর্মী টিপু মেকারকে আটকে রেখে আহত করে, পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু অভিযোগ করেন, সার্চ কমিটির সদস্য শামসুলের নেতৃত্বে তার গুণ্ডারা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তার দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অপরদিকে শামসুল দাবি করেন, তিনি ওই হামলার সাথে জড়িত নন এবং এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তিনি অভিযোগ করেন, মিঠু ও ধরমপুর যুবদলের নেতারা সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে এবং ছাত্রদল নেতা আকাশের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।
আকাসের বোন মোসা চাঁদনী খাতুন বলছেন, তাদের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং এ ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ড. পল্লব জানান, আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত গুলির নয় এবং অপরজনের হাতের আঘাত সম্পর্কে চিকিৎসকরা মূল্যায়ন করছেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে, তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর রয়েছে। থানায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি দুই গ্রুপের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।






