ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এমন অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আছে যেখানে চলতে গিয়ে ডানে-বামে গাড়ি থাকার বিষয়টি বুঝা যায় না।এসবস্থানে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে চার রাস্তার মোড়গুলো এখন চলার পথের আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন অবস্থায় গতিরোধক দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
পৌর এলাকার আরেকটি ভয়ংকর মোড় হচ্ছে রাধানগর চৌরাস্তা। কয়েক বছর আগে এখানে প্রাণ হারান বিজলী রানী সাহা নামে এক গৃহবধূ। মাছ নিয়ে ফেরার সময় মুহুর্তেই দেওয়া অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি মারা যান। এ মোড়ের পাশেই রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একাধিক কিন্ডার গার্টেন। লাল বাজার ও দাস পাড়া হয়ে প্রধান সড়কে উঠতে যান দেখা যায় না।
একইভাবে কসবা-আখাউড়া পথে চলাচলকারিরাও বুঝে না বুঝে ওই মোড়টি পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ি ও বাসিন্দা মো. শরীফ, মো. ইয়াছিন চৌধুরী, মিঠু চক্রবর্তী, ঝন্টু দাসসহ অনেকে।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর মশিউর রহমান বাবুল বলেন, ‘এ মোড়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কোনো দিন নেই যে এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে না। আখাউড়া-কসবা যে সড়ক সেখানে দু’পাশে দু’টি স্প্রিডব্রেকার দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার উদ্যোগ না নিলে এলাকাবাসী নিজ থেকে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।’
পৌর এলাকার দেবগ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা কমেন্টস এ নিরাপদ সড়কের দাবি তুলেছেন। কয়েকমাস আগে তার ভাই মো. কোব্বাত হোসেন বাড়ির কাছেই অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ হারান। দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি জায়গায়ও বিপদজ্জনক মোড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস, শিপন দেওয়ানসহ কয়েকজন।
খালাজোড়া মোড় থেকে প্রধান সড়কে উঠতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ি মো. মনির হোসেন ও কামাল হোসেন। আখাউড়া থেকে তারাগন এলাকায় ঢুকতে সেতুর কাছে একইরকম সমস্যা বলে জানিয়েছেন সালমান মাহমুদ। দুর্গাপুর রেলগেইট পার হয়ে আখাউড়া-চান্দুরা সড়কে উঠতে একই সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা। জাজিরপুল এলাকায় দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার রাস্তার মোড়টিও ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়েছেন এনামুল হক। আশিক ইসলাম মালদার জানান, মসজিদপাড়া থেকে বাইপাস সড়কে উঠতেও বেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। পৌর এলাকাসহ উপজেলার আরো কিছুস্থানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ মোড় রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে খড়মপুর বাইপাসটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে গত সপ্তাহে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে একজন মারা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারানো পলাশ সাহা রাধানগর চৌরাস্তার মোড়ে দু’টি গতিরোধ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দীপংকর ঘোষ নয়ন ওই মোড়সহ ঘোষপাড়া মোড়ে গতিরোধক দেওয়ার দাবি তুলেছেন। শেক আলী, সাদ্দাম হোসাইন সাদাফ, হেমন্ত চন্দ্র দেব, জুনায়েদ মাহমুদ, ইমন ভূঁইয়া, আলী আকবর, প্রবাসী খায়রুল ইসলাম, রফিকুল ইসলামসহ অনেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গতিরোধ দেওয়া, সচেনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়াসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছেন।
আখাউড়া পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী মো. তানভীর হোসেন বলেন, ‘চার রাস্তার মোড়গুলোতে ইদানিং দুর্ঘটনা বেড়েছে। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে গতিরোধক দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’
বার্তা বাজার/এস এইচ






