যশোরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়স্তম্ভের নামফলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম থাকায় নামফলকটি গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলির সময়। এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে এবং এটি এবারই প্রথম নয়। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, এটি ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টার অংশ।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোরের এই বিজয়স্তম্ভ উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে যশোরে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর দিনের প্রথম ভাগে বিজয়স্তম্ভে জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। পরে একে একে প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানান।
বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দেখা যায়, স্তম্ভের নিচের অংশ একটি গাঢ় সবুজ রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তার উপরে ‘মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী বীর শহিদদের স্মরণে’ লেখাটি দৃশ্যমান রয়েছে। বিজয়স্তম্ভের বেদিতে লাল কার্পেট বিছানো হয় এবং পাশে শামিয়ানা টানানো একটি জায়গা থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের ধারাবিবরণী দেয়া হচ্ছিল।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিজয়স্তম্ভে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক কাপড়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে। এটা ইতিহাস বিকৃতির অংশ হিসেবেই করা হচ্ছে। ইতিহাসে যার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য, তাকে ততটুকু দিতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মযহারুল ইসলাম মন্টু বলেন, এ রকমটা হবে বলে আমরা একটি পক্ষ বিজয়স্তম্ভে যাইনি। ইতিহাস কাপড়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা নোংরামি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ বলেন, গত বছরও কাপড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক ঢেকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিজয়স্তম্ভ চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। তবে এবার বিজয়স্তম্ভ পরিষ্কারও করা হয়নি। প্রশাসনের ভিতরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির লোকজন বেশি বলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই কাজটি অন্যায় করেছে, স্বাধীনতার প্রতি অন্যায় করেছে। তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, আমি চোখ বন্ধ করে গেছি, চোখ বন্ধ করে এসেছি। তারা (প্রশাসন) এ চেতনার লোক নন। ইতিহাস কাপড়ে ঢেকে রাখা যায় না। এটা নোংরামি।
তবে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে এভাবেই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। এটি এবারই প্রথম নয়। বিজয়স্তম্ভ ব্যবস্থাপনার একটি উপকমিটি আছে, তারা সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি করে থাকে। মূলত সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যই বিজয়স্তম্ভে অন্য বছর সাদা কাপড় ব্যবহার করা হয়। এ বছর গাঢ় সবুজ কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। বিজয়স্তম্ভ সংস্কার না হওয়ায় এমনটি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিজয়স্তম্ভ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।






