সাতক্ষীরায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে গম কাটা-মাড়াইয়ের শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিরকল্যাণে অল্প সময়ে শ্রমিক ছাড়াই ক্ষেত থেকে গম কাটতে ও মাড়াই করতে পারায় যুশি কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৫ শত ৫ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা ক্ষেত থেকে গম কাটতে শুরু করেছেন। জেলার ৭টি উপজেলার কলারোয়ায় ১৫৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ২১৮ হেক্টর, তালায় ৩৬ হেক্টর, দেবহাটায় ০৮, কালিগঞ্জে ৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৮-৪ শামনগর উপজেলায় ২০ হেক্টও জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকাল থেকে জেলার কলারোয়া উপজেলার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে সোনালী দানার গম কাটা হচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে। একই সঙ্গে এ মেশিনেই গম মাড়াইয়ের পর গম বস্তায় ভরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কম খরচে স্বল্প সময়ে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই মাঠ থেকে সহজেই গম ঘরে তুলতে পেরে খুশি চাষিরা।
হারভেস্টার মেশিনের গম মাড়াই নিয়ে চাষিরা বলছেন, অনেক উপকার হয়েছে হারভেস্টার মেশিন আসায়। ১৫ মিনিটে গম কাটা ও মাড়াই করে পরিষ্কার গম ঘরে তুলতে পারছেন তারা। গম কাটার এই মেশিন আসায় তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এতে গম উৎপাদনে খরচও কম হচ্ছে এবং কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সঠিক সময়ে গম ঘরে তুলতে পেরে যুশি তারা। বিগত দিন যেখানে এক বিঘা জমির গম কাটতে ও মাড়াই করতে ৩০০০-৩৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতো। শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হতো। এখন শ্রমিক ছাড়াই কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে মাত্র ১০-১৫ মিনিটে এক বিঘা জমির গম কাটা ও মাড়াই করতে সহজ হয়ে গেছে। খরচও কম লাগছে। সরকার ৫০ শতাংশ ভূর্তুকি দিয়ে কৃষকদের কৃষি আবাদ ও ফসল উৎপাদনে এই কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। একবিঘা জমিতে ৯ থেকে ১২মন গম পাচ্ছে কৃষকরা। কৃষকরা এখন গম কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের কাজ সহজ করতে এবার যুক্ত হয়েছে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন। এতে যেত থেকে গম কাটা-মাড়াইয় করতে পেরে কৃষকের খরচ কমছে।। আশা করছি কৃষকরা এ বছর গমের ভালো দাম পাবেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






