ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, নেপথ্যে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সাইকো’ সম্রাট: পুলিশ

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

সাভারে সাত মাসে ৬ খুন, নেপথ্যে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সাইকো’ সম্রাট: পুলিশ

সাভারে ৬ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুলিশের তদন্ত বেরিয়ে এসেছেন চঞ্চল্যকর তথ্য। অনেকটা মানসিক রোগীর মতো আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জনকে খুন করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য দেন। তার আগে, পুলিশ সাভার থানার সামনে থেকে গতকাল রোববার বিকেলে সম্রাটকে আটক করে।

গ্রেপ্তাকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন।

রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গতকাল রোববার রাতে মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন। সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন। তার পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যেককেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন। গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।’

সাভার থানার পরিদর্শক অপারেশন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার আরও এক ভবঘুরে নারীকে কমিউনিটি সেন্টারে দেখা যায়। সম্রাট তাকেও ওই রাতে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।’

হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। একেক দিন একেক রকম পোশাক পরতেন। তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবার্তা বলতেন, এ কারণে সবাই তাকে পাগল মনে করতেন। আসলে তিনি পাগল নন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘রিমান্ড মঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন