ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বালু–চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে যুবদল নেতাকে হত্যা, দাবি বিএনপির প্রার্থীর ছেলের

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

বালু–চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে যুবদল নেতাকে হত্যা, দাবি বিএনপির প্রার্থীর ছেলের

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বালু ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের বিষয়টি। ঘটনার একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম আকবর খন্দকারের ছেলে ও ‘ইয়ুথ ভয়েস অব বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার এ হত্যাকাণ্ডকে একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলে দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি জানান, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়া হাট বাজারসংলগ্ন জলিলনগর–নোয়াপাড়া সড়কে জানে আলম সিকদার গুলিতে নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রাণহানি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

তবে ‘সত্যের খাতিরে’ কিছু বিষয় সামনে আনার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার তারেক আকবর দাবি করেন, নিহত জানে আলম স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পূর্ব গুজরা এলাকায় প্রবাসীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জানে আলম একাধিকবার আলোচনায় আসেন এবং একপর্যায়ে গ্রেপ্তারও হন।

স্ট্যাটাসে সংযুক্ত ছবি ও ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে জানে আলমকে দলবল নিয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ব্যারিস্টার তারেক আকবর আরও দাবি করেন, জানে আলম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার সঙ্গে বাগোয়ান ইউনিয়নে বালু ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলছিল। হত্যাকাণ্ডের দিনও বাগোয়ান এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সব দিক বিশ্লেষণ করে ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার দাবি করেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড মূলত একই গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ স্বার্থবিরোধী দ্বন্দ্ব ও বালু–চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিরোধের ফল।’

এর আগের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে রাউজানে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডই বালু ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, নিহতের ময়নাতদন্ত চলছে এবং এখনো মামলা হয়নি।
তিনি বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি হলে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, রাউজানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টিই রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সময়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে শতাধিকবার। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৩৫০ জন।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন