কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছুটির দিনে পর্যটকদের আনন্দ বঞ্চিত করছে হকারদের উৎপাত। সৈকতের প্রতিটি প্রবেশদ্বার এখন যেন হকারদের দখলে। বালিয়াড়ি পেরিয়েই নোনাজলে নামার পথে পর্যটকরা নানা বাধার মুখে পড়ছেন। অনেক সময় উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে আইসক্রিম, পান, ঝালমুড়ি, ফল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে, যা ভ্রমণের আনন্দে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশদ্বার দিয়ে নোনাজলে নামার সময় পর্যটকরা হকারদের সরাসরি উপস্থিতি অনুভব করছেন। কুমিল্লা থেকে আসা জহির উদ্দিন বলেন, “টুল টেবিল সহ পান, সিগারেট, আইসক্রিম, আচার, ফল—সবই বিক্রেতাদের হাতে। এতে সাগরে নামাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” আরেক পর্যটক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “হকারদের জন্য আলাদা মার্কেট থাকলেও তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দোকান করছে। স্বস্তিতে হাঁটাও সম্ভব হচ্ছে না।”
কিটকটে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকা পর্যটক আমানউল্লাহও বলেন, “১ মিনিটের মধ্যে ২০ জনের বেশি হকার আমার কাছে এসেছেন। শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা, পানি, চিপস, সিগারেট, আনারকলি, আনারস, ছোলা, বেলুন—সবই বিক্রি হচ্ছে। ভিক্ষুকও এসেছে। এখানে কেউ নজর রাখছে না।”
সৈকতের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাদ্দাম জানান, “প্রশাসনের লোক থাকলেও হকাররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দোকান খুলে বসেছে। অনেক রোহিঙ্গাও ব্যবসা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।”
এই বিষয় নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজিম খান বলেন, “হকারদের ছাতার পরে নামার অনুমতি নেই। এ নিয়ম কার্যকর করা হবে। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আপেল মাহমুদ বলেন, “প্রতিদিন হকারদের বালিয়াড়ি থেকে সরানো হয়, কিন্তু তারা পুনরায় বসে যায়। অভিযোগ আছে, জনপ্রতি হকাররা সকালে ৫০ টাকা এবং বিকেলে ৫০ টাকা দেয়। এটি যদি প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সৈকত হকারমুক্ত করা সম্ভব।”
যদিও সৈকতে তীব্র ভিড়, রোদ ও ঢেউয়ের তীব্রতা থাকলেও ভ্রমণপিপাসুরা সমুদ্রের আনন্দ উপভোগ করছেন। তবে হকারদের অব্যাহত উৎপাতের কারণে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পুরোপুরি শান্ত ও আনন্দময় নয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ






