লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত (বিধু) রায়ের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক নারী ইউপি সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন, তার ওয়ার্ডের বরাদ্দকৃত ভিজিডি, ভিজিএফ, ১০ টাকার চালসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান তাকে ব্যক্তিগতভাবে আপত্তিকর প্রস্তাব দেন এবং জানান, প্রস্তাবে রাজি হলে সব সুবিধা মিলবে, না হলে বঞ্চিতই থাকতে হবে।
এই বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য জানানো এবং একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চেয়ারম্যান আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চেয়ারম্যানের ছেলে ও ভাড়াটে লোকজন তাকে মারধর করে এবং শারীরিকভাবে অপমান করে। একপর্যায়ে তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ খুললে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকেও চেয়ারম্যানের অনুসারীরা মারধর করে। পরে তাকে ‘পা ধরিয়ে’ ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী ইউপি সদস্য থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকবর আলী বলেন, “নারী ইউপি সদস্যের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার বলেন, “বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।”
চেয়ারম্যান কৃষ্ণ কান্ত (বিধু) রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বার্তাবাজার/এমএইচ






