ঢাকা   রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বনভূমি গিলে খাচ্ছে সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ বাজার

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম

বনভূমি গিলে খাচ্ছে সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ বাজার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন বিভাগের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ দোকান ও বাজার। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব বাজার টিকে আছে। ক্যাম্প প্রশাসন অভিযানের কথা বললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অবৈধ বাজারগুলো দিন দিন বিস্তার লাভ করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পালংখালী ইউনিয়নের ১৩ ও ১৯ নম্বর ক্যাম্পে বনভূমি দখল করে বাজার বসানো হয়েছে। এসব বাজারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলম, শ্রমিক লীগ নেতা আলমগীর, যুবলীগ নেতা সরওয়ার এবং ছাত্রলীগ নেতা নিশান-মিজান। বাজারগুলো তাদের নামেই পরিচালিত হচ্ছে। নেই কোনো বৈধ অনুমতি বা ট্রেড লাইসেন্স।

অভিযোগ রয়েছে, মাসে ৪০-৫০ লাখ টাকা ভাড়া ওঠে এই অবৈধ বাজারগুলো থেকে। ওই অর্থের বড় অংশ নিয়মিত রাজধানীতে পৌঁছায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ ও সদ্য গ্রেফতার হওয়া উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আজাদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অর্থ ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইশতিয়াক আহমেদ জয় নামের সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা পালিয়ে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠজনরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক এই ফান্ড সংগ্রহের দায়িত্বে আছেন। চোরাই চাল-ডাল, পরিবহন সিন্ডিকেট ও অবৈধ বাজার থেকে আসা অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে ঢাকায় মিছিল-মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।

এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৩ ও ১৯ এখন হয়ে উঠেছে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীসহ একাধিক মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি এখানেই আত্মগোপনে রয়েছেন। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীও এখানে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব অবৈধ বাজারে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন ক্যাম্প ইনচার্জ । ছিনতাইকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদেরও এই অর্থ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। বাজারের টাকায় গড়ে তোলা হয়েছে রাসেল ও মিজান বাহিনী, যারা ক্যাম্প এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ দখলদারদের তালিকা ক্যাম্প প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, “বন বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হবে।”

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পের ভেতরের সব বাজারই অবৈধ। কাউকে বাজার বসাতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসব বাজার উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলছে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্প প্রশাসনের গাফিলতির কারণে সরকারি জমি দখলমুক্ত হচ্ছে না। রোহিঙ্গা আগমনের আগে বন বিভাগের জমি লিজ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। কিন্তু ঐসব জায়গায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে এসব জমি। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চালানো এই অবৈধ বাজার এখন ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধের মূল অর্থের উৎসে পরিণত হয়েছে।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন