ঢাকা   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ড. ইউনূসের মুখোমুখি হতে চান টিউলিপ সিদ্দিক

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৫, ০৮:০৩ এএম

ড. ইউনূসের মুখোমুখি হতে চান টিউলিপ সিদ্দিক

বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগকে “ভুল বোঝাবুঝি” আখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপি ও সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিক। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান রবিবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ড. ইউনূসের আসন্ন লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে চিঠিটি পাঠান টিউলিপ। তিনি জানান, লন্ডনে সাক্ষাতের সুযোগ হলে নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন, বিশেষত তার খালা ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো উঠেছে সে প্রসঙ্গে।

চিঠিতে টিউলিপ স্পষ্টভাবে দাবি করেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যে অভিযোগ এনেছে তা “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন।” তিনি লেখেন, “আমার এবং আমার মায়ের বিরুদ্ধে ৭,২০০ বর্গফুট জমি অবৈধভাবে পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ বাস্তবে বাংলাদেশে আমাদের কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই এবং আমি কখনো এমন জমির মালিক ছিলাম না।”

টিউলিপ আরও জানান, তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক, লন্ডনে জন্ম এবং দীর্ঘদিন ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি, কিন্তু আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন গড়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার আইনজীবীদের না জানিয়ে ঢাকার একটি এলোমেলো ঠিকানায় নোটিশ পাঠাচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ ফাঁস করছে। “এটি একটি সাজানো তদন্ত। যার প্রতিটি ধাপ আগে থেকেই মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে, অথচ আমার আইনজীবীরা কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাচ্ছেন না,” বলেন টিউলিপ।

এছাড়া, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা সমন জারি হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলেও জানান তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ফলে তিনি চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি টিউলিপের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব প্রসঙ্গে টিউলিপ বলেন, “আমি ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম। কিন্তু যেন বিতর্ক সরকারের কাজে প্রভাব না ফেলে, সেই বিবেচনায় আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।”

নিজের নির্দোষতা প্রমাণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রীদের আচরণ বিষয়ক উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের কাছেও নিজেকে তদন্তের জন্য উপস্থাপন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সেই তদন্তে টিউলিপ নির্দোষ প্রমাণিত হন, যদিও পরিবারিক সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য ভাবমূর্তি সংকট সম্পর্কে তাকে সতর্ক করা হয়।

২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার মস্কো সফরে টিউলিপের উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি চিঠিতে বলেন, “আমি সেখানে একজন পর্যটক হিসেবে গিয়েছিলাম, সেটি ছিল একান্ত ব্যক্তিগত সফর।”

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি সম্প্রতি লন্ডনে প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি জব্দ করেছে, যা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন