রেডিও বার্তা ডেস্ক:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের মাঝে মঙ্গলবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় একটি নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয় কাকরাইল মোড়ে। সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং চলাকালীন সময় হঠাৎ একজন যুবক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মাথায় পানির বোতল ছুঁড়ে মারেন। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার পর মাহফুজ আলম এক মন্তব্যে বলেন, “যিনি আমার উপর বোতল নিক্ষেপ করেছেন, তার আচরণ ও হঠাৎ উত্তেজনা দেখে আমার মনে হয়েছে তিনি একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হতে পারেন। আমি মনে করি, একটি বিশেষ গোষ্ঠী আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে একে স্যাবোটাজ করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু আজকের ঘটনা প্রমাণ করে, আন্দোলনের মধ্যে একটি অপশক্তি প্রবেশ করেছে, যারা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে বিতর্কিত করতে চায়।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় মাহফুজ আলম সেখানে উপস্থিত হয়ে কথা বলা শুরু করেন। তবে তার বক্তব্য চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে একজন তরুণ উত্তেজিত হয়ে একটি বোতল নিক্ষেপ করেন, যা সরাসরি মাহফুজ আলমের মাথায় লাগে।
পরে পুলিশের সহায়তায় মাহফুজ আলম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তার দাবি, “এই ধরনের আচরণ সাধারণ শিক্ষার্থীর হতে পারে না। এটা পূর্বপরিকল্পিত। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করবো, এই ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য।”
এদিকে, এখনও হামলাকারী যুবকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘তৃতীয় পক্ষের’ হস্তক্ষেপ ন্যায্য দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আবার কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ হিসেবেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলনের ভেতর থেকে এমন সহিংসতা বিরল নয়, তবে এতে আন্দোলনের বৈধতা ক্ষুণ্ণ হয়। সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব হবে, দ্রুত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া — যাতে আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের সম্মান অক্ষুণ্ন থাকে, এবং উসকানিদাতারাও বিচারের মুখোমুখি হয়।






