আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা বিভাগের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক আলাউদ্দিন আবিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, শিক্ষা সম্পাদক আব্দুল মোহাইমেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি মোজাফফর হোসেন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হেলাল উদ্দিন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসা বিভাগের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, সময়ের দাবি মেনে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। ইসলামি মূল্যবোধের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত না হলে জাতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। বক্তারা মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধের দাবি জানান।
প্রধান অতিথি সিবগাতুল্লাহ বলেন, "আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। তবে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।" তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নানা বৈষম্যের শিকার, বিশেষ করে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অধিকাংশ শিক্ষক এখনও এমপিওভুক্ত হননি।
তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক শিক্ষাখাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। গত অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের মাত্র ১.৬৫ শতাংশ অংশ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার জন্য নির্ধারিত ছিল, যা পর্যাপ্ত নয়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং গবেষণার সুযোগ বাড়াতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এসময় শিক্ষাখাতে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ছাত্রশিবিরের ১১ দফা দাবিও তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসা দ্রুত জাতীয়করণ, দাখিল ও আলিম পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু, দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় নম্বরের সমতা, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিতকরণ, শিক্ষকের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং মাদ্রাসায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার যদি সময়োপযোগী সংস্কার না করে, তবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বঞ্চিতই থেকে যাবে, যা জাতীয় উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।






