তেজগাঁও স্টার হোটেলের পাশে আহসানুল্লাহ মিশন রোডে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা দুই ব্যক্তি চাদর ও মাফলার পড়া অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বীরকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এমন দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সময় মুছাব্বীরের সঙ্গে সুফিয়ান বেপারী মাসুদ নামে অপর এক ব্যক্তিও ছিলেন। তারা একসঙ্গে গলি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
এতে তাদের শরীরে একটি করে গুলি লাগে। পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুছাব্বীর মারা যান এবং মাসুদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, তেজগাঁওয়ের কারওয়ান বাজার আহসানুল্লাহ মিশন গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে মুছাব্বীর মারা যান এবং তার সঙ্গে থাকা মাসুদ আহত হন।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গায়ে চাদর ও মুখমন্ডলে মাফলার পরা অবস্থায় আগে থেকেই সেখানে ওত পেতেছিল। মুছাব্বীর ও মাসুদ গলি দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখনই ওত পেত থাকা দুই ব্যক্তি তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে মুছাব্বীর মারা যান এবং মাসুদ আহত হন।
আগে থেকে ওত পেত থাকা দুই ব্যক্তি গুলি ছোড়ার পরপরই দৌড়াতে দৌড়াতে মেইন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যান। তবে সরাসরি গুলি করার দৃশ্য এখনও দেখতে পাওয়া যায়নি। এটি দেখা চেষ্টা করা হচ্ছে কারণ গলিটা কিছুটা অন্ধকার।
অপর দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (তেজগাঁও জোন) মো. ফজলুল করিম বলেন, দুই ব্যক্তি আগে থেকেই গলিতে ওত পেত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এটি অবশ্যই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, হাসপাতালে থাকা আহত ব্যক্তির সঙ্গে এখনো বিস্তারিত কথা বলা হয়নি।
এ ছাড়াও নিহতের পরিবারের সঙ্গেও এখনও সেভাবে কথা বলা যায়নি। তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে অনেক কিছুই জানার চেষ্টা করা হবে। পুলিশের তদন্তের কাজ চলছে এবং ইতোমধ্যেই পুলিশের ইউনিট হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এই গুলির ঘটনা ঘটে।
নিহত মুছাব্বীর তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাদের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিম কারওয়ান বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান।
নিহতের ছোট ভাই মাহাবুবুর রহমান আজমাইন বলেন, তার বড় ভাই ব্যবসায়ী ছিলেন। পানি ও পিকআপভ্যানের ব্যবসা ছিল তার। এ ছাড়াও পৈতৃক বাড়ি থেকে ভাড়া পেতেন। তবে তার স্ত্রী সুমি ও তিন সন্তানকে নিয়ে পশ্চিম কারওয়ান বাজার এলাকায় থাকতেন না; রাজধানীর অন্য একটি স্থানে সম্ভবত বনশ্রীতে থাকতেন। পাশাপাশি পশ্চিম কারওয়ান বাজার এলাকায় মাঝে মাঝে থাকতেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মোবাইলে নিহতের ছোট ভাই মাহাবুবুর রহমান আজমাইন বলেন, তার ভাইয়ের জীবননাশের কোনো হুমকি ছিল কি না সে বিষয়ে তার জানা নেই। এ ছাড়াও কারা এবং কেন মুছাব্বীরকে গুলি করে হত্যা করেছে, সেই ব্যাপারেও কিছু জানাতে পারেননি।
গুলির ঘটনার পরপরই লোকজন গুলিবিদ্ধ মুছাব্বীরকে উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ঘটনার অপর গুলিবিদ্ধ সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বীরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার চত্বরে আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে স্থানীয় লোকজন। সেই সময় চতুর্পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বার্তাবাজার/এমএইচ






