ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভারত তারেকের উপর আস্থা করবে বলে আমার মনে হয় না, যদি না তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন: যশবন্ত সিনহা

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৫ এএম

ভারত তারেকের উপর আস্থা করবে বলে আমার মনে হয় না, যদি না তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন: যশবন্ত সিনহা

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ও মূল্যবান অভিমত তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যত এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও মনোভাবের প্রভাব।

যশবন্ত সিনহা, যিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় বাংলাদেশের সফর করেছিলেন, সেই সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমি তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ সফরের সময় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করি। সে সময় ভারত বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে, তিনি ভারতের বর্ষীয়ান নেতা আডবাণী এবং কট্টর হিন্দুত্ব নিয়ে খুবই তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। পাশাপাশি ভারতে বসবাস করা সংখ্যা লঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর অযথা চাপ প্রয়োগ ও নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হবার কথাও বলেন”।

সিনহা আরো জানান যে, খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের মনোভাবও তখন প্রায় একইরকম ছিল, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, “এ কারণে আমি মনে করি না যে, ভারতের পক্ষে তারেকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং কার্যকরভাবে কাজ করা খুব একটা সহজ হবে না।”

তারেক রহমান, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, তার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সিনহা বলেন, “তারেক রহমানের মনোভাব যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে ভারত ও তারেকের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন হবে।”
এছাড়া তিনি একথাও উল্লেখ করেন যে, “যদি তারেক রহমান নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলতে সক্ষম হন এবং কিছুটা লিবারেল ডিপ্লোম্যাসিতে আগ্রহী হন, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আগের চেয়ে বেশী ভালো সম্পর্ক হওয়া সম্ভব।”

যশবন্ত সিনহার অপর মন্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ভরশীলতা একটা সূত্র তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হয় সে বিষয়টাও ভাববার বিষয়।

তবে তারেক রহমান যদি আরও উদার ও বাস্তবধর্মী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন, তবে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের আরও সুমধুর হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, সিনহা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

এদিকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিকক মহলেও তারেক রহমানের প্রতি নানা মতামত রয়েছে, এবং তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। তারেক রহমান যদি প্রথাগত রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে একটি অধিক আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী এবং লিবারেল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন, তাহলে তা কেবল বিএনপির জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন