রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিবিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার মিশনের আয়োজন করা জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দেশের সংস্কার গভীর ও মৌলিক হতে হবে, শুধুমাত্র নথিপত্রের পরিবর্তন নয়, মনের গভীর স্তরে সংস্কার জরুরি। নাহলে আবারও স্বৈরাচার পুনরুত্থিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। উপরে মাত্র একটা ছাঁচা বা প্রলেপ দিয়ে নয়, অন্তর্দৃষ্টির পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সংস্কার সম্ভব। যতই আমরা প্রচেষ্টা চালাই, যদি গভীর পরিবর্তন না আসে তাহলে স্বৈরাচার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি থাকবে।”
জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, বিচার হবে এমনভাবে যাতে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার আর কখনো জনগণের ওপর নিপীড়ন সৃষ্টি করতে না পারে।
তিনি বলেন, “বিচার মানে শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়া নয়, এটি নিশ্চিত করা যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না।”
জাতীয় ঐকমত্য গঠনের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য কাজ করছি, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে।”
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি বাংলাদেশ তৈরি করা যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীন, মর্যাদাবান এবং শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট এবং গত বছরের জুলাই-আগস্টের সংকটকালে জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল।






