ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

‘জমির ধান পনির নিচে চলে গেছে, আমি এখন কি করবো জানি না’

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ১২:০৮ এএম

‘জমির ধান পনির নিচে চলে গেছে, আমি এখন কি করবো জানি না’

‘জমির ধান পনির নিচে চলে গেছে, আমি এখন কি করবো জানি না’

‘জমির ধান পনির নিচে চলে গেছে, আমি এখন কি করবো জানি না’

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : হঠাৎ বাগেরহাটে তিন দিনের বৃষ্টিতে আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

এদিকে জেলার ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে আবাদ হওয়া বোরো ধানের অর্ধেকেরও বেশি এখনও মাঠে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। টানা বৃষ্টি, রোদহীন আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতায় কৃষকের চোখে এখন লোকসানের ভয়।

মৌসুমের শেষ সময়ে সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ টানা তিন দিনের বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি সেই স্বপ্নে ফেলেছে শঙ্কার ছায়া। বাগেরহাটের বিভিন্ন মাঠে এখনও পড়ে আছে কাটা ও অর্ধপাকা ধান। কোথাও জমে থাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেত, কোথাও আবার রোদের অভাবে শুকানো যাচ্ছে না কাটা ধান। 

বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেকে আগেভাগে ধান কাটা শুরু করলেও অধিকাংশ কৃষক শেষ করতে পারেননি। ফলে একদিকে মাঠে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে কাটা ধান শুকাতে না পারায় বাড়ছে দুর্ভোগ।

কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচে এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।

কচুয়া উপজেলার কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমার চার বিঘা জমিতে ব্রো ধান চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সব ধান কেটে উঠতে পারিনি। অর্ধেকের বেশি ধান জমিতে রয়েছে। এক লাখ টাকা খরচ করে এখন নিঃশ্ব। সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভাবনা।’

সাবিক নামের এক কৃষক বলেন, ‘দুইদিন ধান কেটেছি চারজন লোক নিয়ে। আকাশ মেঘলা থাকায় সেই ধানও রোদে শুকাতে পারিনি। আমার জমি অনেক নিচু, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সকালে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমার জমির ধান পনির নিচে চলে গেছে, আমি এখন কি করবো জানি না।’ 

বক্কর হাওলাদার নামের এক কৃষক বলেন, ‘ধান কেটে জমিতে রাখা ছিল। ভেবেছিলাম সকালে আনতে শুরু করব। সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বৃষ্টিতে ভিজেই কিছু ধান এনেছি কিন্তু বাকি সব মাঠে পানির নিচে। অনেকেই বলছেন, সরকারি সহায়তা ছাড়া এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যেতে পারে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে এবং দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘জেলায় ২৫৫০ হেক্টর জমির ১২ হাজার ১৮৯ মেট্রিকটন বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। টাকার অংকে ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে ১২ হাজার ৫শ’ কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আমরা কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন