সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সচিবালয়ে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা সচিবালয়ের সব প্রবেশ গেট বন্ধ করে দেন, যার ফলে ফটক দিয়ে কোনো গাড়ির প্রবেশ বা বাহির সম্ভব হয়নি। ৫ নম্বর গেট দিয়ে হেঁটে যাওয়া-আসার সুযোগ থাকলেও সেটিও দ্রুত বন্ধ করে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, সংশোধিত সরকারি চাকরি আইন বাতিল না হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনে সচিবালয় পুরোপুরি অচল করে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন, ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বা বিবর্তনমূলক আইনের খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইনের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে বলে মনে করছেন তারা। তাই এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা ও বাতিল দাবি করছি।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধনের খসড়া নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশোধিত খসড়ায় চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছুটি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত থাকা, কর্তব্য না পালন করা, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, উসকানির জন্য কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেয়া ইত্যাদি।
গত ২২ মে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীরা তাদের দাবি না মেনে অধ্যাদেশ বাতিল না করলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।






