হিন্দু নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেছেন, শ্রীমঙ্গল থেকে রাজধানী পর্যন্ত তারা সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। বিভাজনের পরিবর্তে একাত্মতা বজায় রাখাই হবে তাদের শক্তির উৎস।
শুক্রবার (২৩ মে) রাজধানীর টিকাটুলিতে শ্রীশ্রী স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এ বার্তা দেন নেতারা। এই পরিষদটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ জোট। অনুষ্ঠানে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ১৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করা হয়।
ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালন পর্ষদের সভাপতি বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার অনুষ্ঠানে বলেন, “মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বার্থে আমরা একাত্ম। দুর্বলতা কখনোই আমরা মেনে নেব না। ঐক্যবদ্ধ হলে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়।”
স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রম ট্রাস্টের সভাপতি ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আমরা সবাই একে অপরের সহযোগী, প্রতিপক্ষ নয়। ভিন্ন মত থাকলেও বিভাজন নয়, ঐক্য অটুট রাখতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা যেভাবে আসুক না কেন, আমাদের ঐক্য ভাঙতে দেওয়া যাবে না। মানবিক বাংলাদেশ গঠনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, “দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার একর দেবোত্তর সম্পত্তি দখল হয়ে আছে। দখলকারীদের আমরা অনুরোধ করব, এসব সম্পত্তি ফিরিয়ে দিন।”
সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য্য সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাহিত্যিক জয়ন্তী রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন দেব।
ঢাকা ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) গোকুল ভি. কে. অনুপস্থিত থাকলেও শুভেচ্ছা পাঠিয়ে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন ড. জে কে পাল, অধ্যাপক অশোক তরু, অসিত কুমার মুকুট মণি, সাধন দেবনাথ, জিতেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, রতন চন্দ্র পালসহ অন্যান্যরা।
উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে রয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা, যারা সনাতনী সমাজের ঐক্য ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঐক্যবদ্ধ থেকে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের পক্ষে অটল থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন।






