চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১৪ মে) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান। তার আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহের পরিবেশ।
চট্টগ্রামে পৌঁছেই তিনি সরাসরি যান বন্দরের এনসিটি-৫ টার্মিনালে। সেখানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সংস্থা ও বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বন্দর সংশ্লিষ্ট আধুনিকায়ন, বে টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে।
এরপর প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যান। সেখানে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট নতুন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তিনি। একইসাথে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প এবং অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের অগ্রগতিও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতায় তিনি চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ২৩ একর জমির মালিকানার দলিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
দুপুরের পর ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে যোগ দিতে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এ সমাবর্তনে ২০১১ থেকে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ২০১৫ থেকে ২০২৫ সময়কালের ২২ জন গবেষককে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই গুণীজনকে সমাবর্তনে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাকে ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রিতে ভূষিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও সফরের একপর্যায়ে তিনি হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রামের বাড়ি বাথুয়া এবং ঐতিহাসিক জোবরা গ্রাম পরিদর্শন করেন। এই জোবরা গ্রামেই তিনি ক্ষুদ্রঋণ ধারণার সূচনা করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনের এক মডেল হিসেবে বিবেচিত।
ড. ইউনূসের এই সফর ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। পুরো দিনব্যাপী কর্মসূচিকে ঘিরে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।






