সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি নির্বাচনে বিএনপির জয়ী সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদের দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়ের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের সম্পূর্ণ দ্বিমতহীন ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী বার্ষিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতাসহ অনতিবিলম্বে ওয়েবসাইটে প্রকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এই চর্চা সব খাত ও পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য জনবল, যাদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়, তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য করতে হবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও সংসদ নির্বাচনের গণরায়ের মূল লক্ষ্য ছিল একটি জনকল্যাণমূলক, সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। তাঁর মতে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা জোট নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ যে বিস্তৃত অঙ্গীকার জনগণের কাছে করেছে, সেগুলোর কার্যকর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ।
তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সদিচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলেও দুর্নীতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কোনো প্রতিশ্রুতিই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তব সুফলও জনগণের কাছে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাবে না। বরং উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি ক্রয় খাতসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দলবাজি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অনিয়ম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। পাশাপাশি পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ, ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন, কর ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের মতো চৌর্যতান্ত্রিক অনাচারও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণাকে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন। ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এ সিদ্ধান্ত দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে নবগঠিত সরকারের প্রতি জনমনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে সমাজের সর্বস্তরে বিস্তৃত দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পদ্ধতিগত ও আইনি সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা যেন বাস্তবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।






