২০১৮ সালে শোজি মরিমোতো নামে এক ৩৩ বছর বয়সী জাপানি যুবক চাকরি হারান। সেই সময় তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন। শোজির বস তখন তাকে বলেছিলেন, “তুমি কিছুই করো না, তোমার কোনো অবদান নেই এই প্রতিষ্ঠানে।” এই কথাটা শোজি হয়তো বেশ গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ, ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি ‘কিছু না করেই’ প্রায় ৮০ হাজার ডলার (বাংলা টাকায় প্রায় ৯৭ লাখ টাকা) আয় করতে সক্ষম হন! কীভাবে?
চাকরি হারানোর পর শোজি একটি ওয়েবসাইট শুরু করেন, যেখানে তিনি মানুষকে অর্থের বিনিময়ে যেকোনো ধরনের সঙ্গ দেয়ার প্রস্তাব দেন। অদ্ভুত হলেও, বেশির ভাগ গ্রাহক কেবল তার সঙ্গই চেয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, এক ম্যারাথন দৌড়ানো ব্যক্তির জন্য শোজি ফিনিশিং লাইনে গিয়ে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। এক নারীর কাছে প্রথমবার পার্টির সঙ্গী হিসেবে ভাড়া পেয়েছিলেন কারণ তিনি পার্টিতে একাকী বোধ করতেন। পরবর্তীতে ওই নারীর সঙ্গে তিনি অনেক পার্টি ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কেউ কেউ কেক বা কফি খেতে, গল্প করতে তাকে ভাড়া করেছেন। এমনকি একবার এক নারী তাঁকে ভাড়া করেছিলেন এক ঘণ্টার জন্য শুধু পাশে বসে থাকার জন্য, যেটা ঐ নারী ডিভোর্স পেপারে সই করার সময় ছিল। বহু ভ্রমণে শোজি তাঁদের ছবি তুলেছেন ও ভিডিও ধারণ করেছেন।
শোজি বলেন, কত টাকা নিবেন তা গ্রাহকরা ঠিক করেন। অনেক সময় তিনি গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে অতিরিক্ত কাজ করলে তারা তাকে চুক্তির চেয়ে বেশি টাকা দিয়েও থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার কাজের চাহিদাও বেড়ে গেছে। এখন যাঁরা বেশি অর্থ দেবেন, সেসব গ্রাহককে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।
এক ব্যক্তির জন্য ১৭ ঘণ্টার কাজ করেছেন শোজি। কাজটি ছিল ট্রেনে করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে ফিরে আসা, এবং পুরো সময় ক্লায়েন্টের কথা মন দিয়ে শোনা। অনেকেই জীবনের নানা গল্প বলতে তাকে ভাড়া করেন এবং তিনি মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।
সিএনবিসির এক সাক্ষাৎকারে, সাত বছরের ছেলের বাবা শোজি বলেন, “অনেক কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হয়েছি। অচেনা মানুষের সঙ্গে পার্টিতে যাওয়া, রোদ বা বরফে দাঁড়িয়ে থাকা, এমনকি কারো জন্য চিৎকার করা বা চুপ করে কাউকে শোনা সহজ কাজ নয়। তবে এসব কাজ আমি ভালোভাবেই করেছি, কারণ এটা আমার পেশা। আমি এখন ভালো আয় করছি এবং আমার পরিবারকে সহায়তা করছি। দিনের শেষে আমি সুখী।”
জাপানে গত কয়েক বছর ধরে জন্মহার কমছে, আর একক পরিবার বাড়ছে। তারুণ্যের অনেকেই বিয়ে করে পরিবার গঠন করতে আগ্রহী নন। যদিও অনেকেরই আর্থিক অবস্থা ভালো, একাকিত্ব এখন বড় সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মানসিক প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা মানুষের জন্য সঙ্গ দেয়ার কাজ করে।
জাপানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নমুরার পরামর্শক আই সাকাতা জানান, “জাপানিদের মধ্যে যেটার অভাব আছে, সেটাই শোজি পূরণ করছেন। যারা ভালোবাসা বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান না, তারা এ ধরনের সেবা খুঁজছেন। ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজন হয় মানুষের সমস্যার সমাধান করা—শোজি এই চাহিদা ধরেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”
শোজির এই অভিনব কাজ একাধারে মানুষের একাকিত্ব কমাচ্ছে এবং তার জন্য ভালো আয়ও নিশ্চিত করছে।
4.1-mini






