ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

যে বিপদ ধেয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে, যে আশঙ্কা

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১২:০৩ এএম

যে বিপদ ধেয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে, যে আশঙ্কা

যে বিপদ ধেয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে, যে আশঙ্কা

যে  বিপদ ধেয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে, যে আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা।

মঙ্গলবার (২ জুন) প্রকাশিত পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরে মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার এল নিনো দেখা দিতে পারে, যা আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া, যা সাধারণত নয় থেকে বারো মাস স্থায়ী হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, উষ্ণ সমুদ্রের পানি বর্তমানে এল নিনোর বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে। এর ফলে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এর তীব্রতা কতটা হবে, সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। তারপরও সম্ভাব্য ঝুঁকির জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি খরা ও অতিবৃষ্টির পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে থাকে।

এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবণতাও বাড়াতে পারে এল নিনো।

সেলেস্তে সাউলো বলেন, ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ শক্তিশালী এল নিনো ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তার মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রার সঙ্গে আরও কিছু বড় ঝুঁকি জড়িয়ে রয়েছে। মশা ও উকুনজাতীয় বাহকের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের বিস্তার বাড়তে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পানির সরবরাহও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব জনগোষ্ঠী আগে থেকেই নানা সংকটে রয়েছে, তারা আরও বেশি চাপের মুখে পড়বে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি যখন ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, তখন এল নিনোর কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থা ইতোমধ্যে গত এক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর স্তরে অস্বাভাবিক উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রয়েছে।

এই অতিরিক্ত তাপ একটি বিশাল তাপভাণ্ডার তৈরি করেছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং এল নিনোকে শক্তিশালী করছে।

এল নিনোর নতুন সতর্কবার্তাকে জলবায়ু সংকটের আরও একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেন, এটি বিশ্বকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

গুতেরেসের মতে, বিশ্বকে এটিকে একটি জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণ হয়ে ওঠা পৃথিবীর আগুনে আরও জ্বালানি যোগ করবে। সূত্র : রয়টার্স

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন