যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বুধবার ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এরদোগান বলেন, “গত রাত থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতিকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি কোনো ধরনের উস্কানি বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।”
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “বন্ধুপ্রতীম দেশ পাকিস্তানসহ যারা এই যুদ্ধবিরতি অর্জনে অবদান রেখেছেন, আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।” উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামীতে এই সংঘাত নিরসনে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (MIT) সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নির্দেশে সংস্থাটির প্রধান ইব্রাহিম কালিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইরাক, কাতার, সৌদি আরব এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেন। এমনকি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সাথেও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাত থামানোর বার্তা পৌঁছে দেয় আঙ্কারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে এই সংঘাত আপাতত স্থগিত করেছেন।
এদিকে তুরস্কের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো পক্ষই এই অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করে। বিশেষ করে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে এই যুদ্ধে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহারের যে পরিকল্পনা ছিল, তুরস্কের কড়া অবস্থানের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। আঙ্কারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, কুর্দিরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালে তাদের কোনোভাবেই সমর্থন দেওয়া হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থায়ী শান্তি কেবল সংলাপ এবং পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমেই সম্ভব। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় তুরস্ক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






