ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

ট্রাম্পের মঙ্গলবারের সময়সীমা নিয়ে আতঙ্কে ইরানের সাধারণ মানুষ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

ট্রাম্পের মঙ্গলবারের সময়সীমা নিয়ে আতঙ্কে ইরানের সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ঘিরে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন—যদি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অশালীন ভাষায় লেখা—‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে, আর ব্রিজ ডে’ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিলেও সাধারণ মানুষের মনে তা বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেও যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি কয়েকজন ইরানির সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ইরানিদের সবাই দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী।

তেহরানে বসবাসকারী বিশ-এর কোঠার তরুণ কাসরা বলেছেন, ‘আমরা যেন ধীরে ধীরে এক জলাভূমিতে ডুবে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের কিছুই করার নেই। আমি ভাবি—এক মাস পর হয়তো আমরা পানিও পাব না, বিদ্যুৎও থাকবে না, শুধু অন্ধকারে বসে থাকব।’

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্বাভাবিক পরিস্থিতির চিত্র দেখানো হলেও বাস্তবে অনেকেই বাড়ির মধ্যে খাদ্য ও পানির মজুত করছেন। তেহরানের তরুণী মিনা বলেন, ‘আমার মা ঘরের সব বোতল পানি দিয়ে ভরে ফেলছেন। আমরা কী করব জানি না। এখন অনেকেই বুঝতে পারছে ট্রাম্প আমাদের নিয়ে মোটেও ভাবেন না।’

গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ট্রাম্প সমর্থনের কথা বললেও পরে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের সময় তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছিল।

তবে ইরানের ভেতরে মতভেদও রয়েছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে সমর্থন করলেও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাকে ‘লাল দাগ’ হিসেবে দেখছেন। কারাজ শহরের আরমান বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা মানে পুরো দেশ অচল হয়ে যাওয়া। এতে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে।’

অন্যদিকে তেহরানের রাদিন মনে করেন, যে কোনো হামলাই যদি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়, তবে তা মেনে নেওয়া যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘এই সরকার টিকে গেলে তা চিরস্থায়ী হয়ে যাবে।’ যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নির্মাণ প্রকৌশলী বাহমান বলেছেন, ‘এখন আর কোনো কাজ নেই। ছোট ছোট কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে।’ তেহরানের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জামশিদ জানান, তাঁর ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মাসে প্রায় ২০ কোটি তুমান ভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি দিশেহারা।

ইন্টারনেট ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। অনেকেই গোপনে স্টারলিংক ব্যবহার করছেন, যদিও এটি ব্যবহারের জন্য কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। টেলিগ্রামে ১ জিবি ডাটা প্রায় ৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

তেহরানের মারজান বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি। এত টাকা দিয়ে ইন্টারনেট কিনেও লাভ নেই, যদি বিদ্যুৎই না থাকে। আজ তিনবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’ সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক হামলা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ এক গভীর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন