যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলা সত্ত্বেও তেহরান এবং অন্যান্য শহরে কুদস দিবসের স্মরণে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করছিলেন এবং জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগান সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন।
তেহরানের সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। লারিজানি দাবি করেন, ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবগত নন যে ইরানিরা একটি শক্তিশালী, সচেতন এবং সংকল্পবদ্ধ জাতি।’
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তৌহিদ আসাদি জানান, এই সমাবেশ কেবল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল দেশে চলমান হামলার প্রতি ইরানিদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এটি একটি দ্বিবিধ বার্তা… এই প্রদর্শনীতে যোগদানকারী মানুষের মধ্যে তীব্র আবেগ কাজ করছে কারণ দেশটি আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের হামলার শিকার হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনি এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়।
এবার যুদ্ধ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণকে বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নেমে শত্রুদের হতাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা।






