আফগানিস্তানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজধানী কাবুলসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে চালানো এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খলিল জাদরান জানান, আফগান রাজধানীতে বাড়িঘরে বোমাবর্ষণের ফলে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে পাকিস্তান রাতভর এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–এর সদস্যরা।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে হামলার ঘটনা বাড়ার পর জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে কাবুলে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার এসব হামলায় তাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, পাকিস্তানের হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার প্রদেশও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
তিনি জানান, পাকিস্তানের সীমান্তঘেঁষা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাকতিয়া ও পাকতিকাতেও হামলা হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, তাদের অভিযান কেবল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে বেসামরিক কেউ নিহত হয়নি।
এছাড়া তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষও হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসকারী অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন ইউএনএএমএ জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে অন্তত ৫৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৪ জন শিশু।






