ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

তাইওয়ানের কাছে জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, চীনের সাথে উত্তেজনা চরমে

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

তাইওয়ানের কাছে জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, চীনের সাথে উত্তেজনা চরমে

আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তাইওয়ানের মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইউনাগুনি দ্বীপে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে জাপান।

জাপানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেছেন, ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে এই দ্বীপে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই পদক্ষেপ চীনের সাথে দেশটির বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কোইজুমি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০৩০ অর্থবছরকে লক্ষ্য রেখেই এই সামরিক অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি চলছে। জাপানের এই সিদ্ধান্তকে একটি পরিকল্পিত উস্কানি হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশনের সিনিয়র ফেলো আইনার টাঙ্গেন মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতেই টোকিও এই সময়টিকে বেছে নিয়েছে। মূলত তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংশ্লিষ্টতা বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবেই জাপান ও চীনের মধ্যে তাইওয়ান নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সরাসরি তাইওয়ান সংঘাতে জাপানের সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলায় বেইজিং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং আগুন নিয়ে খেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন ইতোমধ্যে জাপানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা এবং বিরল খনিজ সম্পদ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের মতো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এমনকি বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে টোকিও’র চিড়িয়াখানায় থাকা জায়ান্ট পান্ডাগুলোকেও বেইজিং ফেরত নিয়ে গেছে।

বিশ্লেষক আরনাড বার্ট্রান্ড মনে করেন, জাপানের এই সামরিকায়ন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হাত ধরে জাপানের শান্তিবাদী সংবিধানের যে পুনর্নির্ধারণ শুরু হয়েছিল, বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন তারই ধারাবাহিকতা। জাপান এখন রাশিয়ার পরিবর্তে পূর্ব চীন সাগরে চীনের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলাকেই প্রধান প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর তাগিদও টোকিওকে এই পথে ধাবিত করছে।

এদিকে চীন কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও জাপানের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ২০টি জাপানি কোম্পানির ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বেইজিং। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে চীন জাপানের অটোমোবাইল শিল্পের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। যেহেতু চীন জাপানের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার, তাই এই সামরিক উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত টোকিও’র অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন