ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালাতে পারে—এমন ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও আশঙ্কার মধ্যে সাইপ্রাসে অবস্থিত নিজেদের বিমান ঘাঁটিতে আরও ছয়টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য।
শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার নরফোকের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মারহাম ঘাঁটি থেকে মোট ছয়টি এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান সাইপ্রাসের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও অস্থিতিশীল বা ‘উত্তপ্ত’ হয়ে ওঠে, তবে নিজেদের সার্বভৌম ঘাঁটি ও অঞ্চল রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ চালিয়ে বসতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। বর্তমানে সাইপ্রাসের আক্রোতীরি ঘাঁটিতে আগে থেকেই অবস্থানরত টাইফুন জেটগুলোর সাথে এই এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমানগুলো যোগ দেবে। উল্লেখ্য, টাইফুন জেটগুলো বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় মিশন পরিচালনা করছে।
অন্যদিকে, কাতারের অনুরোধে গত মাসে আক্রোতীরি থেকে চারটি টাইফুন যুদ্ধবিমান কাতারে পাঠানো হয়েছিল। কাতার সরকার সে সময় “আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি”র কারণ দেখিয়ে এই সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের এই সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ওমানে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনাকে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করলেও, তিনি সতর্ক করেছেন যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে এর ফলাফল হবে “ভয়াবহ”। তিনি ইরান থেকে পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন।
পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো অবস্থাতেই কোনো আপস বা আলোচনা হবে না। তিনি একে ইরানের “প্রতিরক্ষা ইস্যু” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিমান বাহিনী প্রধান এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধান শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে ইসরায়েলও সেই অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলোর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার সময় যুক্তরাজ্য সরাসরি অংশ না নিলেও, নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমান ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সাইপ্রাসের এই ঘাঁটিগুলোকে বর্তমান সময়ের জন্য “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে, ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, সাইপ্রাসের এই আক্রোতীরি ঘাঁটি ব্যবহার করে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।






