পাকিস্তান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রচেষ্টার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আরব সাগরে পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ভারত। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে এই টার্গেট-ভিত্তিক অপারেশন শুরু হয়। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল জম্মু, আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা এবং হিরানগরের বিভিন্ন এলাকা। তবে ভারতের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব হামলা ব্যর্থ হয়।
একই সময় পাঠানকোটে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং রাজস্থানের জয়সলমের সীমান্তে একটি পাকিস্তানি ড্রোন আটকানো হয়।
উত্তেজনার জেরে শ্রীনগর, চণ্ডীগড় ও মোহালির মতো শহরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িক ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানি ড্রোন ও মিসাইলের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর ঘাঁটি, বিশেষ করে জম্মু, পাঠানকোট ও উধমপুর। তবে প্রতিটি হামলার প্রচেষ্টা ভারত সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।
উল্লেখযোগ্য যে, গত মাসে পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করে, যার মাধ্যমে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে একযোগে অন্তত ১৫টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে, তবে তা ব্যর্থ হয়। এর জবাবে ভারতের পক্ষ থেকে লাহোরে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাকিস্তান আবারও ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা করে, কিন্তু ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, “এই উত্তেজনার সূচনা পাকিস্তান করেছে, এবং ভারত শুধু আত্মরক্ষার্থে এবং সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “যদি পাকিস্তান আবার আগ্রাসন চালায়, তাহলে ভারত আরও কঠোর জবাব দেবে।”






