ইসরায়েলের অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (ইউএনআরডব্লিওএ) সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২০) স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সংস্থাটির প্রধান ভবনের ওপর ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অভিযান চলাকালে বেন গভির বলেন, ‘জেরুজালেমের সার্বভৌমত্বের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ এই সন্ত্রাস-সমর্থকদের এবং তারা যা কিছু তৈরি করেছে সবকিছুকে বিদায় জানানো হচ্ছে। প্রতিটি সন্ত্রাস-সমর্থকের ক্ষেত্রেই এমনটাই করা হবে।’ এই অভিযানে বেন গভিরের সঙ্গে ছিলেন জেরুজালেমের কট্টর ডানপন্থি উপ-মেয়র আরিয়েহ কিং। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের ইচ্ছায় আমরা সব ইউএনআরডব্লিওএ কর্মীকে বহিষ্কার, হত্যা, নির্মূল এবং ধ্বংস করব।’
এর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ওই সংস্থাটির কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের নতুন মাত্রার প্রকাশ্য ও ইচ্ছাকৃত অবমাননা।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এটি একটি জাতিসংঘ সংস্থা ও এর স্থাপনার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন হামলা। আজ ইউএনআরডব্লিওএ’র সঙ্গে যা ঘটছে, আগামীকাল তা যে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গেই ঘটতে পারে, তা হোক তা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কিংবা বিশ্বের অন্য কোথাও।’
ইউএনআরডব্লিওএ আরবি ভাষার মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা বলেন, ইসরায়েলের মতো কোনো দেশ আগে কখনো জাতিসংঘের পতাকা তাদের দপ্তর থেকে নামিয়ে দেয়নি। ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের ফলে ইউএনআরডব্লিওএ’র আর কোনো সদরদপ্তর, অফিস বা প্রতিষ্ঠান মাটিতে অবশিষ্ট নেই।’
তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধ্বংসযজ্ঞের পক্ষে সাফাই গেয়ে ইউএনআরডব্লিওএ’র বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই স্থানে ইউএনআরডব্লিওএ-হামাসের কার্যক্রম আগেই বন্ধ ছিল এবং সেখানে আর কোনো জাতিসংঘ কর্মী বা কার্যক্রম চলছিল না।’ তারা দাবি করে, ওই কম্পাউন্ড কোনো ধরনের কূটনৈতিক সুরক্ষা ভোগ করত না এবং এ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি আইন মেনে করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে ইউএনআরডব্লিওএকে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কার্যক্রম পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে ইউএনআরডব্লিওএকে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করার অনুমতি দিয়েছিল যে ১৯৬৭ সালের চুক্তি, সেটি বাতিল হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই






