ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং নোবেল বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে দেশটির সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের দেশের ওপর মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি মাচাদোর প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প তাকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য মনে করছেন না। খবর আরটি ডটকম।
শনিবার ভোরে তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনিজুয়েলায় এক ঝটিকা বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এই অভিযানের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দি করা হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তিনি দীর্ঘকাল ধরে অস্বীকার করে আসছেন।
মাদুরোকে বন্দি করার পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি মাচাদোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কি না বা তাকে ভেনিজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখেন কি না।
উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি তার জন্য নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। নিজ দেশের ভেতরে তার সেই সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি অত্যন্ত চমৎকার একজন নারী হতে পারেন, কিন্তু তার প্রতি মানুষের সেই শ্রদ্ধা নেই।‘
ভেনিজুয়েলার সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাচাদো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি এর আগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে’ ক্ষমতা দখলের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে বিদেশী নিষেধাজ্ঞা সমর্থন এবং মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানোর অভিযোগে ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি পদে আসীন হওয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নোবেল কমিটির মতে, ‘একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং শান্তিপূর্ণ উত্তরণের সংগ্রামের জন্য’ তাকে এই সম্মান দেয়া হয়েছে।
নিজের দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাচাদো পরে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ‘বর্তমান পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটছে, মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার জন্য এটিই একমাত্র পথ।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো শাসন পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নয়, বরং ভেনিজুয়েলার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সঠিক পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করবে। কারাকাস যদি এই বিষয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে, তবে আরো বড় ধরনের সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বার্তাবাজার/এমএইচ






