ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

হাসিনার গদি বাঁচানোর বক্তব্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক তরতাজা প্রাণ হারিয়ে গেছে, কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৯ এএম

হাসিনার গদি বাঁচানোর বক্তব্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক তরতাজা প্রাণ হারিয়ে গেছে, কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিবঙ্গের বিশিষ্টরা। পাশাপাশি রায় ঘোষণার পরই আনন্দে মেতে ওঠেন কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরা। যেসব বাংলাদেশিরা এই মুহূর্তে কলকাতার মারক্যূই স্ট্রীটে অবস্থান করছেন।

তাদের অভিমত, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রায় -বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের বিষয় নয়। ফলে এতে দুই বাংলার সম্পৃক্ততা মোটেও নষ্ট হবে না। গণঅভুত্থান দমাতে হাসিনা অন্য ভূমিকা পালন করতেই পারতেন। কিন্তু তা না করে শত শত মৃত্যু তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমনই মত ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাভারের বাসিন্দা মুক্তার আহমেদের।

তিনি এক কলেজ শিক্ষার্থীর মা। তার অভিমত, শেখ হাসিনাও তো একজনের মা। এটা তার বোঝা উচিত ছিল। এভাবে শিক্ষার্থীদের হত্যা করা উচিত হয়নি। এটা অন্যভাবে মোকাবিলা করা যেত। কিন্তু তা তিনি করেননি। ফলে এই শাস্তি তার প্রাপ্তি ছিল। এটা আমি সমর্থন করি। কিন্তু ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ধ্বংস করা এটা সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কলকাতার বিশিষ্টজনরা। কলকাতার বিশিষ্ট আইনজীবী মুহ. আসলুজ্জান সাহেব বলেছেন, যেকোনো দেশের একজন প্রধানমন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব হলো দেশকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার। সেটা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করেননি। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যে গণহত্যা হয়েছে, তাতে হাসিনার ভূমিকা কোনো অবস্থাতেই আমরা মেনে নিতে পারিনি। সেদিন যদি হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য না রেখে অন্য পদক্ষেপ নিতেন, তবে বাংলাদেশের সেই সমস্ত তরতাজা মানুষগুলো প্রাণহারা হতো না। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাসিনার একটা দায়ভার রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সেদিন একটা সুষ্ঠু সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে কেবলমাত্র নিজের গদি বাঁচানোর জন্য উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারতেন। এছাড়া অন্য পদ্ধতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেন। কিন্তু তা না করার ফলে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেক তরতাজা প্রাণ হারিয়ে গেছে। ফলে এ ঘটনায় শেখ হাসিনাকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না।

তার অভিমত, আমরা সকলেই আইনের আওতায় পড়ি। বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা, সুইডেন, জাপান কোরিয়া, রাশিয়া যে যেই দেশের নাগরিকই হোন না কেন সেই দেশের আইন সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের জন্য। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নই। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোক বা সাধারণ সকলেই আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই।

পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস’র (এপিডিআর) সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সুর বলেছেন, আমরা যেকোনো মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী। ফলে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা তা আমরা সমর্থন করি না। তবে হাসিনার সময়কালে যেভাবে বাংলাদেশ জুড়ে লুটের রাজত্ব, খুন, সন্ত্রাস, গুম হয়েছে, সর্বোপরি জুলাই বিপ্লবে তার বিরুদ্ধে যে গণহত্যার অভিযোগ বা মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে যে মামলা ও বিচার হয়েছে তাতে কঠিন ও কঠোর সাজা হওয়া অনিবার্য ছিল এবং সেটাই হয়েছে। সেদিক থেকে আমাদের কিছু বলার নেই।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সিপিআইএম সাংসদ সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড স্বাভাবিকভাবে মানবাধিকারের বিবেচনায় বর্তমান দুনিয়াতে চলে না। তার চেয়ে বড় কথা হলো একটা প্রতিহিংসার মনোভাব নিয়ে কেউ যদি বাংলাদেশ চলে, তবে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরো বিপদজনক করে তুলবে। বাংলাদেশের মানুষ তা পছন্দ করবেন না। সব মিলিয়ে এ ঘটনা বাংলাদেশ এবং সমগ্র ভারত উপমহাদেশ একটা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এদিকে কলকাতায় অবস্থানরত ঢাকার বাসিন্দা হানিফ বলেছেন, আদালত যে রায় দেবে তা আমাদের মেনে নিতে হবেই। কারণ আদালতের রায় অবমাননা করতে পারব না। জনগণ যদি এই রায়ে খুশি হয় তবে আমাকেও সেই রায়ে খুশি হতে হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি অন্যায় করেছেন। তাই এই রায় একেবারেই সঠিক, শতভাগ ঠিক।

 

বার্তাবাজার/এমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন