ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর শতাধিক সৈন্য ও রিজার্ভ অফিসার নিজেদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই তুলেছেন ভয়াবহ অভিযোগ—গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা, নৃশংসতা এবং নৈতিক পতনের স্বীকারোক্তি করেছেন তারা।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, শতাধিক রিজার্ভ সেনা ও অফিসার বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভির কাছে এক যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্রের আচরণকে “নৈতিক অবক্ষয় ও শৃঙ্খলার ভয়াবহ পতন” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা সেনাবাহিনীর মৌলিক নৈতিক নীতির পরিপন্থী। ‘পিউরিটি অব আর্মস’ নামে যে নীতি বেসামরিক নাগরিককে ক্ষতি না করার কথা বলে, গাজা, জুদিয়া-সামারিয়া (পশ্চিম তীর) ও লেবাননে আমরা ঠিক তার উল্টো আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি।”
চিঠিতে সই করা কর্মকর্তাদের অনেকেই অভিজ্ঞ যোদ্ধা, যাদের মধ্যে উপবিভাগীয় কমান্ডার পর্যায়ের অফিসারও রয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব নৃশংসতা শুধু সৈন্যদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে না, বরং সেনাবাহিনীর কার্যকারিতাও বিপর্যস্ত করেছে।
তারা হালেভিকে আহ্বান জানিয়েছেন যুদ্ধশেষে “শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও সেনাবাহিনীর নিয়মবহির্ভূত আচরণ দূর করার জন্য” কঠোর পদক্ষেপ নিতে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো অভ্যন্তরীণ তদন্তে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত—“যদি এমন তদন্ত সত্যিই হয়।” কান জানায়, সামরিক সেন্সর চিঠির কেবল সীমিত অংশ প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও ভিন্নমত দমনের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। তবু হা’আরেটজ ও টাইমস অব ইসরায়েল-এর মতো গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি জেনারেল স্টাফ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে—বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে।
এটাই প্রথম নয় যে, ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের অপরাধ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরের জুন ২০২৫-এ কয়েকজন সৈন্য হা’আরেটজ-কে জানিয়েছিলেন, তাদের কমান্ডাররা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমনকি যখন তারা মানবিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য একত্র হয়েছিলেন। এর আগে মার্চ মাসে, এক সৈন্য সিবিএস নিউজ-কে জানান, তাকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল ফিলিস্তিনি নাগরিকদের “মানব ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করতে—অর্থাৎ সন্দেহভাজন ভবনে প্রবেশ করিয়ে ইসরায়েলি ইউনিট ঢোকার আগে সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ঘটানো।
এই ধারাবাহিক প্রকাশ্যে আসা স্বীকারোক্তিগুলো আবারও প্রমাণ করছে—ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দখল ও নিপীড়নের ওপর দাঁড়ানো এক কাঠামোগত নির্মমতার প্রতিচ্ছবি, যার ভারে এখন নিজ সৈন্যরাই ভেঙে পড়ছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ





