ঢাকা   শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তানিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: উপজেলা প্রতিনিধি

শিনজো আবে হত্যার দায় স্বীকার হামলাকারীর

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৪ পিএম

শিনজো আবে হত্যার দায় স্বীকার হামলাকারীর

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামি। টোকিও আদালতে শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়ার প্রথম দিনই ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দায় স্বীকার করে বলেছেন, সবই সত্যি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

২০২২ সালে নারা শহরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইয়ামাগামি ঘরে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আবেকে গুলি করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন জাপানের দীর্ঘ মেয়াদের এই প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বজুড়ে শোকের ঢেউ তোলে এই হত্যাকাণ্ড।

আবে ছিলেন জাপানের রক্ষণশীল রাজনীতির প্রতীক, যার অর্থনৈতিক নীতি ‘আবেনমিকস’ নামে পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি কঠোর পররাষ্ট্রনীতির জন্যও পরিচিত ছিলেন। তার হত্যার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনীতির সঙ্গে ধর্মীয় সংগঠনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

ইয়ামাগামি তদন্তে জানান, তিনি আবেকে টার্গেট করেছিলেন কারণ আবে ইউনিফিকেশন চার্চকে (‘মুনিজ’ নামে পরিচিত) সমর্থন করতেন বলে তার ধারণা ছিল। তার দাবি, এই চার্চের প্রভাবে তার মা প্রায় ১০ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার) দান করেন, যা তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে ধ্বংস করে দেয়।

এই অভিযোগের পর জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ও চার্চের সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত এই ধর্মীয় সংগঠনটি ব্যাপক গণবিবাহ অনুষ্ঠানের জন্যও পরিচিত। পরবর্তীতে চারজন মন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হন।

চলতি বছরের মার্চে টোকিও আদালত ইউনিফিকেশন চার্চকে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেয়, যার ফলে তাদের করমুক্ত মর্যাদা বাতিল হয় এবং সম্পদ বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইয়ামাগামির মা এখনও সংগঠনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন বলে জাপান টাইমস জানিয়েছে।

ইয়ামাগামির বিচার আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, হামলায় ব্যবহৃত ঘরে তৈরি অস্ত্রটি জাপানের অস্ত্র আইনের সংজ্ঞায় ‘অস্ত্র’ হিসেবে পড়ে না।

অত্যন্ত কম বন্দুক সহিংসতার দেশ জাপান আবে হত্যার পর থেকে ঘরে তৈরি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আইন আরও কঠোর করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আবে হত্যাকাণ্ড শুধু জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই নাড়িয়ে দেয়নি, বরং ধর্মীয় প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপে পরিবারগুলোর ভঙ্গুরতা এবং সমাজে একাকিত্বের সংকটকেও নতুনভাবে উন্মোচিত করেছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন