ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ার্ডিয়ান’ সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হয়, তা কেবল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফই জানেন।
মিশরের শার্মএল-শেইখে অনুষ্ঠিত গাজা শান্তি সম্মেলন-এ ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং সেখানে বিশ্ব নেতাদের অস্বস্তিতে ফেলার ঘটনা তুলে ধরে এই প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প দুই ঘণ্টারও বেশি সময় দেরিতে আসেন এবং সেখানে বিভিন্ন বিশ্ব নেতাকে উদ্দেশ্য করে অনুপযুক্ত মন্তব্য করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সৌন্দর্যের জন্য প্রশংসা করেন, সংযুক্তআরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতির সম্পদ নিয়ে রসিকতা করেন, কথাবার্তার মাঝখানে বাধা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে অপ্রস্তুত করেন।
এছাড়াও, তিনি হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে ঠাট্টা করেন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে ভুল করে ‘গভর্নর’ বলার জন্য বিদ্রূপ করেন।ট্রাম্পের এই ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণের কারণে সম্মেলনে উপস্থিত বহু নেতাকে বিভ্রান্ত বা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। তবে, ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর মতে, সকল নেতার মধ্যে একমাত্র শেহবাজ শরিফই ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বক্তৃতার সময় শেহবাজ শরিফ উদারভাবে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন, যা তাঁকে হাসতে ও স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। এক পর্যায়ে, ট্রাম্প যখন আবার মঞ্চের কাছে আসার চেষ্টা করেন, তখন শেহবাজ শরিফ শান্তভাবে তাঁকে থামিয়ে দেন এবং নিজের বক্তব্য শেষ করেন, একটুও বিচলিত হননি।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ শেহবাজ শরিফের এই মুহূর্তটিকে কৌশলপূর্ণকূটনীতির উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং মন্তব্য করেছে যে উপস্থিত অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার চেয়ে তিনি ট্রাম্পকে ভালোভাবে সামলেছেন। পত্রিকাটি উপসংহারে বলেছে, ট্রাম্প বেশ কয়েকটি অস্বস্তিকর মুহূর্ততৈরি করলেও, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তাঁর কূটনৈতিক দক্ষতা এবং দ্রুত বুদ্ধির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতিকে সামলে নেন, যা বৈশ্বিক মঞ্চে কঠিন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার তাঁর ক্ষমতা প্রমাণ করে।






