পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইরানের টানটান উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের হুমকির পরেও দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ওয়াশিংটনের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে অবিচল থাকার পাশাপাশি সামরিক শক্তি বাড়িয়ে যাচ্ছে, যা নতুন সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
হুমকির মুখেও কর্মসূচি থেকে সরছে না তেহরান
আমেরিকা এবং পশ্চিমা মিত্ররা নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে ইরানকে বাগে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও কোনো কাজ না হওয়ায় ইরানকে দমন করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তবে তেহরান আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া পরমাণু চুক্তিতে সই করতে রাজি হয়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজিসকিয়ান স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, জোর জবরদস্তি করে ইরানকে কোনোভাবেই দমাতে পারবে না আমেরিকা ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। ক্রোয়েশিয়ায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী কুস্তি দলকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের বীর জাতি কারো কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।
“আত্মসমর্পণ আমাদের স্বভাব নয়”
প্রেসিডেন্ট পেজিসকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, “ইরান অনেক চ্যালেঞ্জ এবং চাপের মুখোমুখি। কিন্তু তারপরেও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও সংকল্পের প্রতি অটুট রয়েছে। বিশ্ব আমাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে। কিন্তু আত্মসমর্পণ আমাদের স্বভাব নয়। আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইরানের পক্ষে দাঁড়াবো এবং কখনো মাথা নত করবো না।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “শত্রুরা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে, কারণ আমরা মাথা নত করছি না… ইরান এবং ইরানি জাতিকে মাটিতে নামানোর চেষ্টা শত্রুদের আজীবন স্বপ্নই থেকে যাবে।”
নিষেধাজ্ঞা আরোপে পশ্চিমাদের নতুন কৌশল
গত মাসে ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানি অভিযোগ করে যে ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির (Joint Comprehensive Plan of Action – JCPOA) কোনো শর্তই মানছে না। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তারা জাতিসংঘের আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করার পদক্ষেপ নেয়। যদিও ২০১৮ সালে একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে গিয়ে আমেরিকা নিজেই চুক্তির শর্ত ভেঙেছিল। গত রবিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুরনো কিছু নিষেধাজ্ঞা আবারও আরোপ করে।
২০১৫ সালের এই চুক্তিতে ইরান, আমেরিকা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সই করেছিল। চুক্তির প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সীমিত করা, যাতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আমেরিকার সরে যাওয়ার পর থেকেই ইরানকে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার বোঝা বইতে হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজিসকিয়ান জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।






