১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া বহুজাতিক ব্যাংক বিসিসিআই-এর বাংলাদেশ শাখা থেকে জন্ম নেয় আজকের শক্তিশালী ইস্টার্ন ব্যাংক। তৎকালীন সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপে আমানতকারীদের অংশগ্রহণে এবং সরকারের মালিকানায় পুনর্গঠিত হয় ইস্টার্ন ব্যাংক, যেটি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক।
শুরুর সময় ব্যাংকটির ঘাটতি ছিল ৩৬৫ কোটি টাকা। সরকার এবং আমানতকারীদের শেয়ার মালিকানা, দায়িত্ববান পরিচালনা পর্ষদ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতির অনুসরণে ধীরে ধীরে এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। শুরুতে সরকার ৬০% শেয়ার ধরে রাখলেও পরবর্তীতে তা ছেড়ে দেয়। আমানতকারীরাই হয়ে ওঠেন বড় শেয়ারধারী ও পরিচালক।
২০০০ সালে ব্যাংকের রূপান্তর শুরু হয় এমজিএইচ গ্রুপের গাজীউল হক চেয়ারম্যান হওয়ার পর এবং কাজী মাহমুদ সাত্তারের নেতৃত্বে পরিচালনায় আন্তর্জাতিক মানের চর্চা শুরু হয়। আলী রেজা ইফতেখার ২০০৭ সাল থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে আজকের অবস্থানে পৌঁছায়।
বর্তমানে ইস্টার্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩% এর নিচে এবং পরিচালন মুনাফা প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি কোর ব্যাংকিং সল্যুশন (CBS) বাস্তবায়নকারী দেশের প্রথম ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে অনিয়ম রোধে সক্ষম হয়েছে।
শাখা সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম (৮৫টি), তবু ২০২৪ সালে ব্যাংকে যুক্ত হয়েছে ১ লাখের বেশি নতুন গ্রাহক। ২০২৫ সালে লক্ষ্য ১.৩ লাখ নতুন গ্রাহক।
ইস্টার্ন ব্যাংক এখন দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি সফল রূপান্তরের মডেল, যা দেশের সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।






