বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ উম্মে সালমা খাতুন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিলেও নিহতের ছেলে সাদ বিন আজিজকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রত কুমার আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে তিন আসামি— মাবিয়া সুলতানা হাসি (৫০), মোসলেম উদ্দিন (২৮) ও সুমন চন্দ্র রবিদাসের (৩২)—এর বিরুদ্ধে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন। অপরদিকে, প্রাথমিকভাবে গ্রেফতার হওয়া নিহতের ছোট ছেলে সাদ বিন আজিজের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১০ নভেম্বর সকালে দুপচাঁচিয়া উপজেলার জয়পুরপাড়ায় ডিএস কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এসএম আজিজুর রহমানের স্ত্রী উম্মে সালমা খাতুনকে নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ ডিপ ফ্রিজে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
দুপুরে ছোট ছেলে সাদ বিন আজিজ বাড়িতে ফিরে বাইরে থেকে তালা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো ও আলমারিতে কুড়ালের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তিনি তার বাবাকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ডিপ ফ্রিজের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উম্মে সালমার মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর নিহতের বড় ছেলে নাজমুস সাকিব দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন র্যাব-১২ সাদ বিন আজিজকে গ্রেফতার করে, এবং তিনি রিমান্ডে গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানা যায়। তবে পরবর্তী তদন্তে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।
তদন্তে উঠে আসে, বাড়ির নারী ভাড়াটিয়া মাবিয়া সুলতানা হাসি উম্মে সালমাকে অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। এরপর পরিকল্পিতভাবে মোসলেম উদ্দিন ও সুমন চন্দ্র রবিদাসকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেন।
পুলিশ ১৪ নভেম্বর তিনজনকেই গ্রেফতার করে, এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মঙ্গলবার আদালত শুনানি শেষে সাদ বিন আজিজকে অব্যাহতি দিয়ে তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নেন।
ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে সাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে তিন আসামির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।”
বার্তাবাজার/এমএইচ






