খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে নতুন চেয়ারম্যানের পদ দখলের বিতর্ক: অনুমোদনহীন পদোন্নতি
খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে চলমান সংকটের কেন্দ্রে উঠে এসেছে মো. মিজানুর রহমানের চেয়ারম্যান পদ দখল নিয়ে বিরোধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত অংশীদার না হয়েও গত ২১ মে এক গোপন সভার মাধ্যমে নিজেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক হিসেবে চেয়ারম্যান পদটির গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এই পদোন্নতির পেছনে যথাযথ অনুমোদনের অভাব উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) ড. সাহিদা খানম স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ খবর জানানো হয়। তবে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিরাজুল হক চৌধুরী দাবি করেন, তাদের অবহিত না করে এই গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যেখানে উপস্থিত অধিকাংশ ট্রাস্টি সদস্যই ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করেন, অননুমোদিত পদোন্নতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিপদে ফেলেছেন নতুন চেয়ারম্যান। পাশাপাশি অনুমোদিত ট্রাস্টি না হওয়া সত্ত্বেও পদ দখলের ঘটনায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিপন্ন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২১ জন ট্রাস্টি থাকতে পারে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৮ জন ট্রাস্টি রয়েছে। নতুন তিন জন ট্রাস্টি হিসেবে মো. মিজানুর রহমান, সৈয়দ হাফিজুর রহমান এবং মো. আজিজুল হকের নাম গত ৩০ জানুয়ারি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-এ পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো তাদের অনুমোদন দেয়া হয়নি।
অধিকারের দাবিতে মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনি কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছেন এবং ২১ মে অনুষ্ঠিত সভায় সবাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। তবে তিনি অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে গণ্য করছেন না। তিনি বলেন, ইউজিসির অনুমোদন পাওয়ার পরই অফিসিয়ালি চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করবেন।
এই বিতর্ক আগামী দিনে খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শাসনব্যবস্থায় কতটুকু প্রভাব ফেলবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কি ধরনের প্রভাব পড়বে, তা দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।






