ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক রক্তাক্ত ইতিহাস আছে। অনেক মজলুমের কান্না আছে। হাজারো স্মৃতি আছে। হাসিনা যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছিল তখন ক্যাম্পাসগুলোকে টার্গেট করেছিল তার মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। আমাদের সকলের প্রিয় ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাস ভাই এখনো আমাদের মাঝে ফেরেনি। খুনি হাসিনার পেটোয়া বাহিনী ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাসকে গুম করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় এলাকায় তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘চায়ের আড্ডায় ডাকসু ভিপি’ শীর্ষক এই প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। এর আগে ২০১২ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাস গুমের শিকার হন।
সাদিক কায়েম বলেন, সকল শহিদের স্মরণ করছি; যাদের আত্মাত্যাগের মাধ্যমে আজকে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। খুনি হাসিনার পেটোয়া বাহিনী আমাদের অসংখ্য ভাই বোনদেরকে নির্যাতন করেছে। তাদেরকে মেরে থানায় দেওয়া হয়েছে, পরিবারকে হেনস্তা করা হয়েছে। শিক্ষাজীবনকে বিনষ্ট করার জন্য শত আয়োজন করা হয়েছে।
ওয়ালিউল্লাহ-মুকাদ্দাস নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মজলুম মা-বাবারা তাদেরকে খুঁজছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আমাদের ভাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন ফিরে দেন। এবং এই গুমের সাথে যারা জড়িত ছিল খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের এবং এই বাংলায় হাসিনা কর্মকান্ডকে কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করেছিল; আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে এই সকল ফ্যাসিস্টকে দেখে নিবো।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোন ঠিকানা হবে না। কোন আদিপত্যবাদের ঠিকানা হবে না। এই স্বাধীন বাংলাদেশে শহীদ ভাই-বোনেরা যে জন্য জীবন দিয়েছে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, ডাকসুর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রেজাউল করিম শাকিল, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার/এস এইচ






